প্রতিবন্ধী ভাতা হলো সমাজসেবা অধিদপ্তরের একটি সামাজিক নিরাপত্তার কর্মসূচি। বাংলাদেশের প্রতিবন্ধী নাগরিকদের জীবনযাত্রা সহজ করার লক্ষ্যে এই ভাতার কার্যক্রম শুরু করা হয়। বর্তমান সরকার জনসাধারণের উন্নতি ও সহায়তা প্রধানের লক্ষ্যে এবং প্রতিবন্ধীদের জন্য ২০০১ সালে থেকে বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ আইন ২০০১ প্রণয়ন করা হয়েছে ।
পরবর্তীতে এ আইনটি বাতিল করে ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন ২০১৩’ প্রবর্তন করা হয়। পূর্বে প্রতিবন্ধী সহায়তা ভাতার হার অনেক কম থাকলেও বর্তমানে নতুন আইনে তা অনেক পরিমাণে বৃদ্ধি করা হয়েছে।
চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রতিবন্ধী ভাতা ভোগীর সংখ্যা ২৩ লক্ষ ৬৫ হাজার জন থেকে ৫ লক্ষ ৩৫ হাজার জন বৃদ্ধি করে ২৯ লক্ষ জন করা হয়। মাসিক ভাতার হার ৮৫০ টাকা। যা পূর্বের আইনে ছিলো ২০০ টাকা। ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে প্রতিবন্ধী ভাতা কার্যক্রম খাতে মোট বরাদ্দের পরিমান ২৯৭৮.৭১কোটি টাকা।
আপনারা জানেন সরকার অনেক ধরনের ভাতা দিয়ে থাকে যেমন বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, মাতৃত্বকালিন ভাতা বা গর্ভকালীন ভাতা সহ আরও অনেক রকমের ভাতা। এই আর্টিকেলে প্রতিবন্ধী ভাতা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।
প্রতিবন্ধি কারা
- প্রতিবন্ধি কারা
- ১. কখন শুরু হয়েছে তার ভিত্তিতে
- ২. কোন অঙ্গ আক্রান্ত হয়েছে তার ভিত্তিতে
- ধাপ ১ঃ সমাজসেবা অধিদপ্তরের ভাতা আবেদনের ওয়েবসাইটে যান
- ধাপ ২ঃ জাতীয় পরিচয় পত্র যাচাই ও ব্যক্তিগত তথ্য পূরন করুন
- ধাপ ৩ঃ প্রতিবন্ধী ভাতার ধরন অনুযায়ী বিস্তারিত তথ্য দিন
- ধাপ ৪ঃ আবেদনকারী সাথে যোগাযোগ সংক্রান্ত তথ্য।
- ধাপ ৫ঃ অন্যান্য যোগাযোগ সম্পর্কিত তথ্য দিন
- ধাপ ৬ঃ আবেদন ফরম ডাউনলোড
- ধাপ ৭ঃ স্থানীয় জনপ্রশাসন কার্যালয়ে প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য আবেদন
বয়স, লিঙ্গ, জাতি,সংস্কৃতি বা সামাজিক অবস্থান অনুযায়ী আর দশজন মানুষ যে কাজগুলো করতে পারে প্রতিবন্ধীতার কারণে সে কাজগুলো যারা করতে পারেনা এই অবস্থাটাই হল ডিসএবালিটি বা প্রতিবন্ধিতা৷ ইমপেয়ারমেন্ট হল দেহের কোন অংশ বা তন্ত্র যদি আংশিক বা সম্পূণভাবে, ক্ষনস্থায়ী বা চিরস্থায়ী ভাবে তার স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা হারায় সে অবস্থাটিকেই প্রতিবন্ধি বোঝায় ৷
প্রতিবন্ধীতার প্রকারভেদ কি কি
নিছে প্রতিবন্ধিতার প্রকারভেদ গুলো দেওয়া হলো ৷ যেমন :
১. কখন শুরু হয়েছে তার ভিত্তিতে
- পরবতী বা অর্জিত প্রতিবন্ধিতাঃ জণ্মের পরে বিভিন্ন কারণে প্রতিবন্ধিত্ব বরন করে থাকলে থাকে পরবতী বা অর্জিত প্রতিবন্ধিতা বলা হয় ৷
- প্রাথমিক প্রতিবন্ধিতাঃ বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধীত্ব নিয়ে জণ্মগ্রহণ করলে তাকে প্রাথমিক প্রতিবন্ধীতা বলা হয় ৷
২. কোন অঙ্গ আক্রান্ত হয়েছে তার ভিত্তিতে
- শারীরিক প্রতিবন্ধি
- দৃষ্টি প্রতিবন্ধি
- শ্রবন প্রতিবন্ধি
- বাক প্রতিবন্ধি
- বুদ্ধি প্রতিবন্ধি
- বহুবিধ প্রতিবন্ধি
প্রতিবন্ধী ভাতা কারা পাবে?
উপরের অনুচ্ছেদে জেনেছেন প্রতিবন্ধীতার প্রকারভেদ কি কি চলুন যেনে নেওয়া যাক প্রতিবন্ধী ভাতার আবেদন এর জন্য গ্রহনযোগ্য ব্যাক্তি কারা সেই সম্পর্কে।
- আবেদনকারীকে প্রতিবন্ধী হতে হবে।
- যে জেলার বাসিন্দা সে জেলা হতে এবং স্হায়ী টিকানা থেকে আবেদন করতে হবে।
- আবেদন কারীর বার্ষিক আয় ৩৬ হাজার এর কম হতে হবে।
- প্রতিবন্ধী আইন ২০১৩ অনুযায়ী সমাজসেবা কার্যালয় হতে নিবন্ধন বা পরিচয়পএ থাকতে হবে।
- আবেদন কারির বয়স ৬ এর বেশি হতে হবে।
- বাচাই কমিটি কর্তৃক নির্বাচিত হতে হবে৷
আশা করি উপরে আলোচনা থেকে আপনারা জানতে পারছেন যে প্রতিবন্ধী ভাতা জন্য আবেদন কারা কারা করতে পারবেন এবং যোগ্য ব্যক্তি কে।
প্রতিবন্ধী ভাতা কারা পাবে না বা অযোগ্য ব্যাক্তি
নিচে কারা কারা প্রতিবন্ধী ভাতা পাবে না বা প্রতিবন্ধী ভাতার অযোগ্য ব্যক্তি সে সম্পর্কে একটি ধারণা দেওয়া হল –
- প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সরকারের অন্য কোন কর্মসূচির আওতায় সেবা গ্রহণ করিলে।
- মাথাপিছু বার্ষিক আয় আয় ৩৬,০০০ হাজারের উর্ধ্বে হলে।
- বয়স ৬ এর নিচে হলে প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য আবেদন করতে পারবেন না।
- সরকারি কোনো কর্মচারী হলে, অথবা সরকারি কোনো পেনশন বা ভাতা ভূক্ত হলে।
- কোনো সরকারি বা বেরকারি সংস্থা থেকে প্রতিবন্ধী আর্থিক সহায়তা পেলে।
উপরে উল্লেখিত কারন গুলো থাকলে আপনি প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য আবেদন করতে পারবেন না।
প্রতিবন্ধী ভাতা কত টাকা ২০২৪
অনেকেই হয়তো জানতে চান বা জানার আগ্রহ যে প্রতিবন্ধী ভাতা কত টাকা। পূর্বের আইন অর্থাৎ ২০০৫ এবং ২০০৬ সালে যে আইন করা হয়েছিল সেই সময় ২০০ টাকা করে প্রতিবন্ধী ভাতা প্রদান করা হতো। তার পর পরবর্তী আইনের প্রতিবন্ধী ভাতা ৭০০ টাকা করা হয়।
বর্তমান সময় প্রতিবন্ধী ভাতা ২০২২-২০২৩ ও ২০২৪ অর্থবছরে প্রতিটি প্রতিবন্ধী ব্যক্তি কে ৮৫০ টাকা করে ভাতা প্রদান করা হয় । বিকাশ বা নগদের মাধ্যমে এই ভাতা সরকার প্রতিবন্ধী ব্যাক্তিদের নিকট প্রেরণ করে থাকে।
প্রতিবন্ধী ভাতায় আবেদন করতে যা যা লাগবে
উপরের আলোচনায় জানতে পেরেছেন প্রতিবন্ধী কারা। কিভাবে একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ভাতা পাওয়ার যোগ্য বিবেচিত হয়। এই অনুচ্ছেদে আলোচনা করবো প্রতিবন্ধী ভাতা পেতে কি কি ডকুমেন্টস লাগবে। আপনি যদি অনলাইনে প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য আবেদন করতে চান তাহলে আপনার যে কাগজগুলো প্রয়োজন। তা নিচে দেওয়া হলো –
- জন্ম নিবন্ধন সনদ ( আটার বছরের ঊর্ধ্বে হলে এন আই ডি)
- প্রতিবন্ধী ব্যক্তির পরিচয় পত্র ( সুবর্ণ নাগরিক কার্ড)
- একটি সচল মোবাইল নাম্বার ( নগদ/ বিকাশ) সহ।
প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য আবেদন করতে উপরে উল্লেখিত ডকুমেন্টস গুলো আপনার প্রয়োজন হবে।
প্রতিবন্ধী ভাতা অনলাইনে আবেদনের নিয়ম
সমাজসেবা অধিদপ্তরে অনলাইনে প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য আবেদন করতে যে নিয়ম গুলো আপনাকে অনুসরণ করতে হবে সেগুলো নিয়ে আলোচনা করবো। যেহেতু অনলাইনে প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য আবেদন করা একটি লম্বা প্রক্রিয়া তাই আপনাদের বোঝার সুবিধার্থে সেগুলোকে ছোট ছোট করে কয়েকটি ধাপে নিচে দেওয়া হলো।
সবগুলো ধাপ সঠিকভাবে পূরণ করলে আপনার আবেদনটি সম্পূর্ণ হবে। আশা করি কোন সমস্যা ছাড়া আপনারা প্রতিটি ধাপ গুলো সম্পূর্ণ করতে পারবেন। চলুন তাহলে যেনে নেই ধাপ গুলো।
ধাপ ১ঃ সমাজসেবা অধিদপ্তরের ভাতা আবেদনের ওয়েবসাইটে যান
অনলাইনে আবেদন করতে সমাজসেবা অধিদপ্তরে https://mis.bhata.gov.bd/onlineApplication এই লিংকে প্রবেশ করুন। যারা আগ থেকে ভাতা পাচ্ছে তাদের নতুন করে আর আবেদন এর প্রয়োজন নেই।

এখানে কার্যক্রম অপশনে ভাতার ধরন নির্বাচন করুন। নিচে নির্বাচন অপশনে ক্লিক করলে একটি ড্রপ -ডাউন মেন্যু পাবেন। এখানে অনেকগুলো অপশন পাবেন এই অপশন গুলো থেকে প্রতিবন্ধী ভাতা নির্বাচন করুন। এখন আপনারা একটি বিস্তারিত অনলাই আবেদন ফরম দেখতে পাবেন যা স্ক্রিনশটে নিচের ধাপে দেখানো হয়েছে।
ধাপ ২ঃ জাতীয় পরিচয় পত্র যাচাই ও ব্যক্তিগত তথ্য পূরন করুন
প্রতিবন্ধী ভাতা আবেদন করার জন্য আপনার জাতীয়পরিচয় পত্র বা জন্ম নিবন্ধন সনদ যাচাই করতে হবে। জাতীয় পরিচয় পত্র নির্বাচন করলে আপনার জাতীয় পরিচয় পত্র নম্বর লিখুন। পাশে জন্ম তারিখে ঘরের ক্যালেন্ডার অপশন এ ক্লিক করে সটিক তারিখটি দেন।

এবার যাচাই করুন লেখাতে ক্লিক করুন জন্ম নিবন্ধন বা এনআইডি কার্ডের নাম্বার দেওয়া হয়ে গেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আবেদনকারী সকল তথ্য পূরন হয়ে যাবে।
তবে অধিকাংশ তথ্যের ঘর অপূর্ণ থাকতে পারে। সেগুলো আপনি ম্যানুয়ালি নিজে টাইপ করে পূরণ করতে হবে।
ধাপ ৩ঃ প্রতিবন্ধী ভাতার ধরন অনুযায়ী বিস্তারিত তথ্য দিন
এইধাপে প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য প্রতিবন্ধী ব্যক্তির প্রয়োজনীয় তথ্যাদি দিয়ে ফাঁকা ঘর পূরণ করতে হবে। ভাতা আবেদনের অনুমোদনের জন্য এই তথ্যগুলি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। নিচে প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো দেওয়া হলো :-
- আবেদনকারী প্রতিবন্ধীতার পরিচয়পত্র নাম্বার বা ডি আই এস পূরন করতে হবে।
- প্রতিবন্ধীদের ধরন অনুযায়ী কোড নাম্বার নির্বাচন করতে হবে।

এই দুটি তথ্য দিয়ে যাচাই বাটনে ক্লিক করুন। ডিআইএস নাম্বার সঠিক ভাবে দেওয়ার পর নির্মিত উত্তর গুলো দিয়ে ফরমটি ফিলাপ করুন। উপরের যাচাই সম্পূর্ণ হলে নিচের ঘরগুলো পুরন করবেন।
- বৈবাহিক অবস্থা।
- পরিবারের সদস্য সংখ্যা
- বার্ষিক আয় এর পরিমাণ
- শিক্ষাগত যোগ্যতা
- আবেদনকারী পেশা
- সরকারিভাবে সরকারি আর্থিক অন্য কোন সুবিধা প্রাপ্তি তত্ত্বাবালি।
- বাসস্থানের তথ্য।
- ভুমি মালিকানা।
- স্বাস্থ্যগত বা কর্মক্ষমতা সম্পর্কিত তথ্য।
- ডিআইএস অনুযায়ী প্রতিবন্ধী ধরণ।
- ডিআইএস অনুযায়ী প্রতিবন্ধীর মাত্রা।
ধাপ ৪ঃ আবেদনকারী সাথে যোগাযোগ সংক্রান্ত তথ্য।
আবেদনকারী সাথে যোগাযোগ করার জন্য আবেদনকারী বর্তমান ঠিকানা ও স্থায়ী ঠিকানা সঠিকভাবে পূরণ করুন। এই ধাপে আপনি যা যা পুরন করতে হবে তা নিচে দেওয়া হল।
- বিভাগ, জেলা ও উপজেলা নির্বাচন করুন ।
- আপনি যে এলাকার আওতাধীন তা নির্বাচন করোন।
- পোষ্ট কোড লিখুন।
- গ্রাম/ বাড়ি হোলডিং ঠিকানা দিন।,
- ইমেইল, বিকাশ নগদ সহ মোবাইল নাম্বার দিন।

এভাবে স্থায়ীও বর্তমান ঠিকানা পূরণ করুন। যদি আপনার স্থায়ী ঠিকানা ও বর্তমান ঠিকানা একই হয় তাহলে উপরের মার্ক করা একই “ঠিকানা” বক্সে ঠিক মার্ক করুন।
নোটঃ
ভাতা প্রাপ্তির জন্য আপনি অনুমোদিত হলে, এই নাম্বারেই আপনার ভাতার অর্থ প্রদান করা হবে। তাই বিকাশ বা নগদ একাউন্টসহ নির্দিষ্ট মালিকানাধীন একটি সচল মোবাইল নাম্বার দেওয়াই উত্তম।
ধাপ ৫ঃ অন্যান্য যোগাযোগ সম্পর্কিত তথ্য দিন
এই ধাপে আপনি প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য যোগ্য কিনা সেই সম্পর্কে তথ্য দিতে হবে। এক্ষেত্রে আবেদনকারী:-
- বাসগৃহ তথ্য।
- খানা প্রদানের বিস্তারিত তথ্য।
- খানায় বিভিন্ন সরকারি ও অন্যান্য সুবিধাপ্রাপ্তি তথ্য।
- গত এক বছরে খানায় বিদেশি অর্থ পেয়েছেন কি না সেই তথ্য।

সব তথ্য দেওয়া হয়ে গেলে বিস্তারিত তথ্য গুলো আবার দেখে নিন। কারণ তথ্যসমূহ আবার সংশোধনের কোন সুযোগ নেই। এবার নিচে সংরক্ষণ বাটনে ক্লিক করে আবেদনটি অনলাইনে জমা দিন।
ধাপ ৬ঃ আবেদন ফরম ডাউনলোড
আবেদনটি সাবমিট করার পর আপনি আপনার আবেদনটি সফলভাবে গৃহীত হয়েছে লেখাটি সংক্রিয় পেজে আসবে। সেখানে প্রিন্ট অপশনে ক্লিক করে আবেদনটি প্রিন্ট করেনি। ফরমটি প্রিন্ট করে স্থানীয় চেয়ারম্যান বা পৌরসভার কাউন্সিলর স্বাক্ষর নিয়ে এটি সংরক্ষণ করুন।
ধাপ ৭ঃ স্থানীয় জনপ্রশাসন কার্যালয়ে প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য আবেদন
প্রতিবন্ধী ভাতা পেতে উপজেলা সমাজসেবা অফিসে আবেদনের ফরমটি ও অন্যান্য কাগজগুলো জমা দিতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে এ সকল কাগজপত্র জমা দিলে তা কমিটি কর্তৃক যাচাই বাছাই করা হবে। তারপর আপনি যদি ভাতার যোগ্য ব্যক্তি হিসাবে বিবেচিত হন তাহলে ভাতার অনুমোদন পাবেন।
উপরের উল্লেখিত ধাপ গুলো পূরন করার পর আপনার আবেদনটি পূরন হবে। আশা করি উপরের আর্টিকেল থেকে আপনি প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য কিভাবে অনলাইনে আবেদন করবেন সে সর্ম্পকে একটি ধারনা পেয়েছেন। উপরের ধাপ গুলো সঠিকভাবে পূরন করে আপনি প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য আবেদন করতে পারবেন।
প্রতিবন্ধী ভাতা কয় মাস পর পর দেওয়া হয়
২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে প্রতিবন্ধী ভাতা কার্যক্রম খাতে মোট বরাদ্দের পরিমান ২৯৭৮.৭১ কোটি টাকা। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নিবিড় তদারকি এবং সমাজসেবা অধিদফতরের সর্বস্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিরলস পরিশ্রমের ফলে প্রতিবন্ধী ভাতা বিতরণ কার্যক্রম প্রায় শতভাগ সাফল্য অর্জিত হয়েছে। বর্তমানে প্রতিবন্ধী ভাতা প্রতি মাসে ৮৫০ টাকা করে তিন মাস পর পর দেওয়া হয়। নগদ বা বিকাশ এর মাধ্যমে।
আরও পড়ুনঃ মাতৃত্বকালিন ভাতা বা গর্ভকালীন ভাতা ২০২৪ | কিভাবে পাবেন, আবেদনের নিয়ম
শেষকথা
আশা করি উপরে আর্টিকেল থেকে প্রতিবন্ধী ভাতা কি? কে কে এই ভাতা পাওয়ার যোগ্য? আর কিভাবে এই ভাতা পেতে হয় বা অনলাইনে আবেদন করতে হয়? কয় মাস পরপর এই ভাতাটি মিলে? কত টাকা করে প্রতিবন্ধী ভাতা দেওয়া হয়? সেই সম্পর্কে বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করা হয়েছে৷
আশা করি আপনারা আমাদের এই লেখাটি পড়ে উপকৃত হয়েছেন এবং কিছুটা হলে ও প্রতিবন্ধী ভাতা সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। তারপর ও যদি আপনাদের বুঝতে কোন অসুবিধা হয় বা আর কিছু জানতে চান তাহলে আমাদের কমেন্ট বক্সে লিখে জানাবেন।
প্রতিবন্ধী ভাতা সম্পর্কিত সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQs)
প্রতিবন্ধী ভাতা কী?
প্রতিবন্ধী ভাতা হল বাংলাদেশের সরকার কর্তৃক পরিচালিত একটি আর্থিক সহায়তা প্রকল্প, যা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয়তা মেটাতে সহায়তা করে।
প্রতিবন্ধী ভাতা পাওয়ার জন্য কারা যোগ্য?
প্রতিবন্ধী ভাতা পাওয়ার জন্য আবেদনকারীকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে, এবং সরকার কর্তৃক স্বীকৃত কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকতে হবে। আবেদনকারীর আয়ের সীমা থাকতে হবে এবং মেডিকেল বোর্ড দ্বারা তার প্রতিবন্ধকতা সার্টিফাইড হতে হবে।
কিভাবে প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য আবেদন করতে হয়?
প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য স্থানীয় সমাজসেবা অফিসে সরাসরি যোগাযোগ করতে হয় বা অনলাইনে নির্ধারিত ফর্ম পূরণ করে আবেদন করা যায়।
আবেদন প্রক্রিয়ার জন্য কী কী কাগজপত্র প্রয়োজন?
প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের মধ্যে রয়েছে:
> জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি
> প্রতিবন্ধীতার সার্টিফিকেট
> আবেদনকারীর আয়ের প্রমাণপত্র
> পাসপোর্ট সাইজের ছবি